ডোমেইন এবং হোস্টিং কী এবং কীভাব‌ে ব্যবহার হব‌ে? 

আমাদের অনেকের নিজের কিংবা প্রতিষ্ঠানের জন্য ওয়েব সাইট তৈরি করার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু একটি ওয়েব সাইট বানানোর জন্য প্রধান দুটি জিনিসের দরকার হয়। একটি হল ডোমেইন নেম আর একটি হল হোস্টিং।ডোমেইন ও ওয়েব হোস্টিংয়ের বিষয়টি অনেকের কাছে কঠিন মনে হয়।

ডোমেইন নেম কি?

মন‌ে করুন আপনার অফিসে কেউ আসতে চায়, তবে তাকে এর ঠিকানা জানতে হবে। ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে এই ঠিকানাটা হচ্ছে তার নাম যাকে বলা হয় ডোমেইন নেম। এই ডোমেইন নেমই আপনার ওয়েবসাইটকে অনন্যভাবে আইডেন্টিফাই করবে। বিশ্বের সবাই ওয়েবসাইটটিকে চিনবে এবং একসেস করবে এ নাম ব্যবহার করে।

ডোমেইন নেম সিস্টেম (DNS) কি?

কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক সফটওর্য়ার কিন্তু কোনো ডোমেইন নেমকে সরাসরি বুঝতে পারে না। সে বোঝে নেটওর্য়াক অ্যাড্রেস বা আইপি অ্যড্রেস। তাই প্রত্যেক ডোমেইন নেমের সাথে একটা আইপি অ্যাড্রেস এসাইন করা হয়। ডোমেইন নেম ব্যবহার না করে এ আইপি অ্যড্রেস দিয়েও সরাসরি ওযেবসাইটটিতে যাওয়া যায়। আইপি অ্যাড্রেস মনে রাখা বেশ কঠিন, সাধারণত ১২ অংকের সংখ্যা হয়। তাই বাস্তবে সবাই ডোমেইন নেম ব্যবহার করে, কিন্তু কম্পিউটারের আইপি অ্যাড্রেস জানা দরকার যেকোন ধরনের কমিউনিকেশনের জন্য। সর্বপ্রথম নেটওর্য়াক ARPANET এর সময়host.txt নামে একটা ফাইলে সব কম্পিউটারের নাম আর তার আইপি অ্যাড্রেস লিখে রাখা হত। যখন নেটওয়ার্কে কোটি কোটি কম্পিউটার থাকে, তখন এভাবে আইপি অ্যাড্রেস লিখে রাখা সহজ কথা নয়। কারণ প্রতিনিয়ত আইপি অ্যড্রেস সংযুক্ত হয় এবং পরিবর্তিত হয়। এ সমস্যার সমাধানে ধারাবাহিক, ডায়নামিক এবং ডিস্ট্রিবিউটেড ডাটাবেজ সম্বলিত একটা সিস্টেম দাঁড় করানো হয়েছে, যাকে বলা হয় ডোমেইন নেম সিস্টেম। ডোমেইন নেমকে কতগুলো লেভেলে ভাগ করা হয়ে থাকে। প্রায় ২৫০টি টপ লেভেল ডোমেইন আছে, বাকি সবই থাকে এদের অধীনে একটা ট্রি স্ট্যাকচারে। ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তুর উপর ভিত্তি করে প্রায় ১৯টি টপ লেভেল ডোমেইন আছে। এর মধ্যে সাধারণ সব ওয়েব সাইটের জন্য .com, ব্যবসায়িক ওয়েবসাইটের জন্য .biz, খবর ও অনান্য ইনফরমেশন সাইটের জন্য .info, অর্গানাইজেশনের জন্য .org, অনলাইন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানেনর জন্য .net আবার প্রায় প্রত্যেক দেশের রয়েছে নিজস্ব টপ লেভেল ডোমেইন, যেমনঃ ব্রিটেনের .uk, জাপানের .jp, যুক্তরাষ্ট্র‌ের .us, ভারতের .in বাংলাদেশের .bd ইত্যাদি ।

ডিএনএস নেম সার্ভার (DNS name server) কী এবং কীভাবে কাজ করে?

বিশ্বে যত ডোমেইন নেম আছে, সেগুলো মিলে একটি ট্রি- এর মত গঠন লাভ করে। এই ট্রি- কে কতগুলো জোনে ভাগ করা হয়। একটি জোনের সব ডোমেইন নেমের দায়দায়িত্ব যে কম্পিউটার নেয় তাকে বলা হয় সে জোনের Authoritative DNS name server ।ডিএনএস নেম সার্ভারের দায়িত্ব হল তার জোনে অবস্থিত সব কম্পিউটারের ডোমেইন নেমের সাথে আইপি অ্যাড্রেস ম্যাচ করানো। না পারলে টপ লেভেল ডোমেইনকে জানানো এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা করা। পুরো বিষয়টিকে অনেকটা পোষ্ট অফিসের মত করে ব্যাখ্যা করা যায়। ধরা যাক, আপনি একটি চিঠি লিখলেন। প্রাপকের ঠিকানা যদি আপনার স্থানীয় পোষ্ট অফিসের এলাকায় মধ্যে হয়, তবে তারাই তা পৌঁছে দেবে। আর যদি না হয়, তবে এরা প্রথমে দেখবে প্রাপকের ঠিকানা কোন দেশের তারপর সে দেশের মূল পোষ্ট অফিসে পাঠিয়ে দেবে চিঠি। সেখান থেকে বিভাগ বা জেলা শহরের পোষ্ট অফিসে, এরপর উপজেলায়, তারপর স্থানীয় পোষ্ট অফিসে চিঠিটি পৌঁছে দেবে। ডোমেইন নেমের ক্ষেত্রে এ ঠিকানা খুঁজে বের করাকেই বলা হয় অ্যাড্রেস resolving, আর সেটা কাজ করে ঠিক পোষ্ট অফিসের মতোই। এখন যদি .com রিসলভার যদি sakhawat.com -এর আইপি অ্যাড্রেস জানতে চায়, তবে প্রথমে সে তার জোনের ডিএনএস নেমসার্ভার .com এর কাছে জানতে চাইবে। যেহেতু sakhawat.com একই জোনে আছে, তার নেমসার্ভারকে তা জানিয়ে দেবে। কিন্তু যদি সে bdnews24.com – এর আইপি অ্যাড্রেস জানতে চায়, তবে .com – এর নেমসার্ভার তা জানাতে পারবে না। তখন এই ডিএনএস query পাঠিয়ে দেয়া হবে টপ লেভেল in জোনের নেমসার্ভারে। সেখান থেকে থেকে .com নেমসার্ভারে। সে যেহেতু sakhawat.com এর আইপি অ্যাড্রেস জানে, তাই সে প্রতিউত্তরে .in কে জানিয়ে দিবে।

ডোমেইন রেজিস্ট্রেশনঃ

ডোমেইন রেজিস্ট্রেশনকে তুলনা করা যায় আপনার অফিস বিল্ডিংয়ের জন্য জায়গা লিজ নেবার সাথে। এর মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটের জন্য নাম (ডোমেইন নেম) বরাদ্দ করলেন। সাধারণত এক বছরের জন্য এ বরাদ্দ হয়ে থাকে, সময় শেষ হবার আগেই তা রিনিউ করতে হয়, নয়তো অন্য কেউ সে একই নামের জন্য আবার আবেদন করতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন ফর এসাইনড নেমস এ্যান্ড নাম্বারস (ICANN) এসব ডোমেইন নেম ম্যানেজ করে থাকে। ICANN – ই নিশ্চয়তা দেয় যে, প্রতিটা ডোমেইন নেম ইউনিক এবং এর সাথে একটা ইউনিক আইপি অ্যাড্রেস বরাদ্দ করা হয়েছে।আপনি ডোমেইন নেম রেজিস্ট্রেশন করবেন যেসব কোম্পানির মাধ্যমে তাদের বলা হয় রেজিস্ট্রার। বিভিন্ন কোম্পানির ফি ও সেবা বিভিন্ন হতে পারে, তবে একই ফি সাধারণত খুব কমই হয়ে থাকে । আপনি যে নামে ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান, রেজিস্ট্রার কোম্পানি প্রথমে অনলাইন ডাটাবেজে সার্চ করবে যে এ নাম অন্য কাউকে বরাদ্দ করা হয়েছে কিনা। কাউকে বরাদ্দ না করে থাকলে কেবল আপনি এ নাম পেতে পারেন। ডোমেইন নেম রেজিস্ট্রেশনের সময় আপনার পুরো নাম, অ্যাড্রেস, টেলিফোন নম্বর ও ইমেইল অ্যাড্রেস দিতে হয়, যা WHOIS (who is) ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকে। লক্ষ রাখবেন, এসব তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত এবং আপনার প্রাইভেসি নষ্ট করতে পারে। যে কেউ চাইলে এ তথ্য দেখতে পারে। বর্তমানে অবশ্য ইমেজ কী ভ্যালুর মাধ্যমে স্পাইওয়্যার ও সফটবট (software robot) ঠেকানো হচ্চে, তবুও তা প্রাইভেসির নিশ্চয়তা দেয় না। অনেক রেজিস্ট্রারই এ সমস্যা কাটানোর জন্য সামান্য ফির বিনিময়ে নিজেরাই প্রক্সি হিসেবে কাজ করে। সে রকম কোন সার্ভিস নিলে সতর্কতার সাথে তাদের শর্তাবলী পড়ে নিন ভালমতো। আরো দুটি বিষয় নিশ্চিত হয়ে নিন, ডোমেইন নেম রেজিস্ট্রেশনের সময় আপনার রেজিস্ট্রেশনের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে? অনেক রেজিস্ট্রার নিজেই তার অধীনস্থ ডোমেইন নেমকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে, যা বাঞ্জণীয় নয়। আর এটাও জেনে নিন, পরে আপনি যদি ওয়েবসাইটটিকে অন্য কোনো রেজিস্ট্রারের অধীন নিতে চাইলে সম্ভব কিনা? এ ধরনের সার্ভিসের শর্ত ও ফি সম্পর্কেও ভালমত জেনে নিন। কারণ ভাল সেবার জন্য অন্য কোনো রেজিস্ট্রারের কাছে যেতে হতে পারে।ডোমেইন নেম রেজিস্ট্রেশনের কয়েক ঘন্টা থেকে কয়েক দিনের মধ্যে আপনার ওয়েবপেজ সবার জন্য উমুক্ত হবে। আপনার রেজিস্ট্রার সাধারণত একটি ডামি পেজ বসিযে দিবে। আপনার ওয়েবপেজকে এবার হোস্টিং করতে হবে। অনেক রেজিস্ট্রার এ হোস্টিংয়ের সেবাও দিয়ে থাকে, তবে আপনি অন্য কোনো কম্পানির মাধ্যমেও তা করতে পারেন। ICANN তাদের নির্ধারিত রেজিস্ট্রারদের মাধ্যমেই ডোমেইন নেম রেজিস্ট্রেশনের পরামর্শ দিয়ে থাকে। এরা নূন্যতম মানের নিশ্চয়তা দেয়। এদের তালিকা ICANN http://www.icann.org/ ওয়েবসাইটে সংরক্ষিত আছে। ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত সমস্ত তথ্যাবলী সংরক্ষণ করে থাকে ICANN। বিশ্বের সব ডোমেইন রেজিস্ট্রার ও রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত তথ্য পাবেন তাদের http://whois.webhosting.info/ ওয়েবসাইটটিতে।

Web Hosting

ওয়েব সাইট হোস্টিং কী?

কোন তথ্যকে অন্যের কাছে তুলে ধরার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সহজ মাধ্যম হচ্ছে ওয়েবসাইট। আজকের কম্পিউটার ব্যবহারকারী মাত্রই ওয়েবসাইট সম্পর্কে অবগত আছেন। সহজ ভাষায় বলা যায়, ওয়েবসাইট হল আপনার তথ্যকে অন্যের সামনে উপস্থাপন করার রাস্তা- সেটা টেক্সট বা মাল্টিমিডিয়া (যেমনঃ ছবি, অডিও বা ভিডিও) যেকোন ধরনের হতে পারে। ওয়েবসাইটে সেগুলো সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা ওয়েব ডেভেলপারের কাজ। আর আপনার ওয়েবসাইটটি অন্যদের দেখার জন্য উপযোগী করাই ওয়েব হোস্টিং নামে পরিচিত। আপনার ওয়েবসাইটটিকে যদি তুলনা করা হয় আপনার প্রতিষ্ঠানের অফিস বিল্ডিং হিসাবে, তবে তার তথ্য বা কনটেন্ট হবে এর আসবাবপত্র। আর ওয়েবসাইট ডেভেলপ করাকে তুলনা করা যাবে বাড়িটি তৈরি করার সাথে। সেক্ষেত্রে ওয়েবসাইট হোস্টিংকে তুলনা করা যায় আপনার অফিস বিল্ডিংয়ের জন্য জায়গা কেনা এবং সে জায়গায় বাড়িটি তৈরি করার সাথে। তবেই ভিজিটররা ওয়েবসাইটি ব্যবহার করার সুযোগ পাবে।

Bandwidth Internet

ব্যান্ডউইথের পরিমানঃ

ওয়েবসাইট হোস্টিং করার সময় যে বিষয়টি ভালোভাবে লক্ষ্য করতে হবে, তা হলো আপনাকে মাসে কি পরিমান ব্যান্ডউইথ দেয়া হবে তা। এখানে ব্যান্ডউইথ বলতে বুঝানো হয় যে ইউজাররা সেই ওয়েবসাইট থেকে মাসে কি পরিমান ডাটা ডাউনলোড করতে পারবে তার পরিমান। ব্যান্ডউইথ হিসাব আপনি খুব সহজে করতে পারবেন। ধরা যাক, আপনার ওয়েবসাইটিতে প্রতিটি ওয়েবপেজের টেক্সট সাইজ 3 KB (কিলোবাইট) এবং গ্রাফিক্স সাইজ 10 KB (কিলোবাইট), প্রতিদিন গড়ে ১০০ জন ভিজিটর গড়ে ৩টি করে পেজ ভিজিট করে । তবে মোট ব্যান্ডউইথ দরকার = (3 KB + 10KB)*100*3*30 = 1,17,00KB (কিলোবাইট) = 114.26 MB (মেগাবাইট), আপনাকে অবশ্যই আনুপাতিক হিসাবের চেয়ে বেশি ব্যান্ডউইট কিনতে হবে শুরুতেই । আপনি জেনে নিবেন ভবিষতে আরো বেশী ব্যান্ডউইথ কিনতে চাইলে কত মূল্য পরিশোধ করতে হবে। আজকাল অবশ্য অনেক ওয়েব হোস্টিং কোম্পানি আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ দিয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে তাদের সার্ভারের ম্যাক্সিমাম ব্যান্ডউইথ ক্যাপাসিটি এবং লোড সম্পর্কে জেনে নিন।

ওয়েব সার্ভারে ওয়েবসাইট আপলোডঃ

যে ওয়েব হোস্টিং কোম্পানির মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইট হোস্ট করছেন, সেগুলো আপনাকে এর জন্য দরকারী ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড দেবে। তাহলেই আপনি এফটিপি (ফাইল ট্রান্সফার প্রটোকল) ব্যবহার করে এ কাজটি করতে পারবেন। এ কাজটি সহজ করার জন্য রয়েছে আরো বেশ কিছু সফটওয়ার, যেগুলো সাধারণভাবে ওয়েব বিল্ডার নামে পরিচিত। অনেক হোস্টিং কোম্পানি ও ডোমেইন নেম প্রোভাইডার এটি ফ্রি দিয়ে থাকে বা আপনি অনলাইনেও ব্যবহার করতে পারেন। এর মাধ্যমে ওয়েবসাইট পাবলিশ করার আগে তার প্রিভিউ দেখেও নিতে পারবেন।

ডাটাবেজ সার্ভারঃ

বেশিরভাগ ওয়েবসাইটেই কোনো না কোনো ডাটাবেজ সার্ভার ব্যবহার করে হয়। এর ফলে তথ্য জমা রাখা, বের করে আনা, সার্চ করা সহজতর হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে ডাটাবেজই মুখ্য, ওয়েবসাইটি শুধু ডাটা প্রর্দশন করে। আপনি যে ডাটাবেজ সিস্টেম ব্যবহার করবেন আপনার ওয়েব হোস্টিং কোম্পানিকে অবশ্যই সেটা সাপোর্ট করতে হবে। সবচেয়ে জনপ্রিয় ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DBMS)- এর মধ্যে রয়েছে মাইএসকিউএল, ওরাকল, মাইক্রোসফট এসকিউএল সার্ভার ২০০৫ ইত্যাদি। ওয়েবসাইট ডিজাইন ও হোস্টিং করার আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম হিসাবে কোনটি ব্যবহার করবেন। কারণ এর সাথে স্ক্রিপিং ল্যাঙ্গুয়েজের ব্যবহার ও ওয়েব সার্ভারের অপারেটিং সিস্টেমও জড়িত।

শেয়ারড নাকি ডেডিকেট সার্ভারঃ

মূলত দুই ধরনের হোস্টিং সার্ভিস আছে- শেয়ারড এবং ডেডিকেটেড । দাম ও পারফরমেন্সের বিশাল পার্থক্য জড়িত এখানে। শেয়ারড হোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে একই ওয়েব সার্ভারে একাধিক ওয়েবসাইটকে হোস্ট করা হয়। ফলে খরচ অনেক কম হয়। কিন্তু এর ফলে স্টোরেজ ক্যাপাসিটি ও ব্যান্ডউইডথ সবার মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। কারণ, একটি সার্ভার সব ওয়েবসাইটের সব ভিজিটরকে হ্যান্ডেল করে। যদি আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর সংখ্যা এক হাজারের নিচে হয়, তাহলে এ ধরনের সার্ভিস বেছে নিতে পারেন । আর অন্য ধরনের সার্ভিস হলো ডেডিকেটেড হোস্টিং। এক্ষেত্রে একটি ওয়েব সার্ভারে শুধু একটি ওয়েবসাইই হোস্টিং করা হবে। ফলে স্টোরেজ, সিপিইই আর নেটওয়ার্কের পুরো ক্ষমতা ব্যবহার করা সম্ভব হয়। এটি বেশ ব্যয়বহুল। প্রতিমাসে ন্যূনতম ৮০ থেকে ১০০ ডলার খরচ হয়ে থাকে।

প্রয়োজনীয় তথ্য ও ঠিকানাঃ

আপনি আপনার ব্যক্তিগত বা কোম্পানির ওয়েবসাইটটি হয়তো কোনো ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন ফার্ম বা ওয়েব হোস্টিং কোম্পানির মাধ্যমে করালেন তখন এ সংক্রান্ত বেশ কিছু ইনফরমেশন জেনে নেয়া জরুরি। কারন, কোনো সময যদি এ ফার্মটি বন্দ হয়ে যায় বা ব্যবসায় পরিবর্তন করে, তখন আপনার ওয়েবসাইটির উপর আপনি নিয়ন্ত্রন হারাবেন, এক বছর পর আইপি এ্যাড্রেস রিনিউ করা না হলে তা হারিয়ে যাবে। সেই সাথে হারিয়ে যাবে আপনার এই ওয়েবসাইটটি। আবার যদি আপনার ওয়েব হোস্টিং কোম্পানির সেবায় সন্তুষ্ট না হয়ে অন্য কারো সার্ভিস নিতে চান, তাহলেও আপনাকে এ তথ্যগুলো জানতে হবে। আপনার ডোমেইন নেমটির দ্বায়দ্বায়িত্ব একজন অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের ওপর ন্যাস্ত করে রেজিস্টার। এই ডোমেইন নেম সংক্রান্ত সব বিষয়ে সবচেযে ক্ষমতাবান এই অ্যাডমিনিস্ট্রেটর। ডোমেইন নেমের ইউনিক নেম নিশ্চিত করা, তার ফিজিক্যাল এ্যাড্রেস, whois ডেটাবেইজে তার এ্যাড্রেস, ইমেইল, টেলিফোন নম্বর পরিবর্তন এ ধরনের সব কাজের ক্ষমতা থাকে এ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের উপর। কাজেই ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন এবং ওয়েব হোস্টিং করার সময় এর কন্ট্রাক এ্যাড্রেস অবশ্যই জেনে নিবেন। আপনার ডোমেইন নেম যে সার্ভারে ব্যবস্থাপনা করা হয়, তাকে ম্যানেজ করে এই অ্যাডমিনিস্ট্রেটর। নেমসার্ভারের সার্বক্ষণিক নিরপত্তা, পরিবর্তন, কনফিগারেশন করা এর দায়িত্ব । আপনার নেমসার্ভার ক্র্যাশ করলে আপনার ওয়েবসাইট কেউ একসেস করতে পারবে না। তাই এ সংক্রান্ত যে কোন সমস্যায় যোগাযোগ করার জন্য এদের এ্যাড্রেস জেনে রাখতে হবে।

ডিস্ক স্পেসঃ

আপনাকে স্পেস এর কথা চিন্তা করতে হবে। আপনার ওয়েব সাইটের জন্য কতটুকু স্পেস লাগবে তা হিসাব করে নিন। আপনি যদি ব্যক্তিগত ওয়েব সাইট করতে চান যাতে শুধু কয়েকটা পেজ থাকবে তাহলে ৫০ এমবি স্পেসই যথেষ্ট। আর যদি চিন্তা ব্যক্তিগত ব্লগ টাইপের ওয়েব সাইট হবে তাহলে ২০০-৫০০ এমবি স্পেসই যথেষ্ট। আর আপনি যদি চিন্তা করেন ছবি, গান, ভিডিও রাখবেন তবে আপনাকে বড় ওয়েব স্পেসের দিকে নজর দিতে হবে। অনেকেই দেখা যায় ১০০ এমবি হোস্টিং যথেষ্ট সাইট হোস্ট করার জন্য কিন্তু কিনে ফেলেন ১-৫০ জিবি। বছর বছর টাকা দিয়ে যাচ্ছেন কিন্তু ব্যবহার করছেন ১০০ এমবি। তাই অযথা স্পেসের জন্য অতিরিক্ত টাকা না দিয়ে সবচেয়ে ছোট প্লান থেকে শুরু করুন। আপনার যদি স্পেস বেশি প্রয়োজন পড়ে তাহলে পরবর্তী প্লানে আপগ্রেড করে নিবেন। এবং প্রায় সব কোম্পানিই আপগ্রেড সুবিধা দিয়ে থাকে। আনলিমিটেড স্পেসের ফাঁদে পা দিবেন না। এটা একটা মার্কেটিং ট্রিকস। কোন কোম্পানিরই আনলিমিটেড স্পেস দেয়া সম্ভব না। একবার চিন্তা করুন তো আপনি মার্কেটে আনলিমিটেড হার্ডডিস্ক দেখেছেন কি না। সার্ভারও আমাদের পিসির মতোই।

আপটাইম/SLA গ্যারান্ট‌িঃ

একটি ওয়েবসাইটের জন্য আপটাইম বিষয়টি খুবই জরুরি। হোস্টের সার্ভার যতক্ষন সচল থাকবে, আপনার ওয়েবসাইটও ততক্ষন সক্রিয় থাকবে। এটা কেবলমাত্র পাঠকের জন্যই গুরুত্বর্পূণ নয়, বরং সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনেও অনেক গুরুত্ববহন করে। পাঠক একবার ওয়েবসাইটে এস‌ে দেখলো ওয়েবসাইট কাজ করছে না, তখন তার মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হবে এবং সে ভবিষ্যতে নাও আসতে পারে।ঠিক তেমনি সার্চ ইঞ্জিনের বট ইনডেক্সের সময় ওয়েবসাইট ডাউন থাকলে, সে ফিরে যাবে এবং ওয়েবসাইট ইনডেক্স হওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন। এখন প্রতিটি হোস্টিং কোম্পানিই ৯৯.৯% টাইম সক্রিয় থাকার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু এদের প্রকৃত আপটাইমের হিসেব পাওয়া সম্ভব নয়। তাই কেনার আগে গুগলে যে কোম্পানি থেকে কেনার কথা চিন্তা করছেন সে কোম্পানির নামের সাথে আপটাইম শব্দটি লাগিয়ে সার্চ দিন। যেমন- socheaphost uptime লিখে সার্চ দিলে socheapost.com এর আপটাইম সম্পর্কে জানা যাব‌ে। আর কোম্পানি যদি কোন মাসে আপটাইম গ্যারান্টি রক্ষা না করতে পারে তাহলে সে জন্য ক্রেডিট প্রদান করে কি না চেক করে নিতে হবে। কোম্পানির ওয়েব সাইটে টার্মস অব সার্ভিসেস লিংকে এ সম্পর্কিত বিস্তারিত লেখা থাকে।

মানিব্যাক গ্যারান্টিঃ

মানিব্যাক গ্যারান্টি অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ বিষয়। অনেক কোম্পানিই ৩০ দিনের মানিব্যাক গ্যারান্টি দিয়ে থাকে। কেনার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন কোম্পানি মানিব্যাক গ্যারান্টি দিচ্ছে কিনা।প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক অবস্থা হোস্টিং কেনার আগে হোস্টিং কোম্পানি ভাল না মন্দ তা জেনে নেয়ার চেষ্টা করুন। কোম্পানি সম্পর্কে ইউজারদের দৃষ্টি ভঙ্গি কেমন তা কোম্পানির রিভিউ দেখলেই বুঝতে পারবেন। যেমন- গুগলে গিয়ে socheaphost review লিখে সার্চ দিলে socheaphost সম্পর্কে ব্যবহারকারী-দের মতামত জানতে পারবেন। কোম্পানি যেসব বিলিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে তা বৈধ্য উপায়ে করে কি না। নাকি চোরাই সফটওয়্যার ব্যবহার করে তা নিশ্চিত হয়ে নিন। যারা চোরাই স্ক্রিপ্ট ব্যবহার করে সার্ভিস দেয় তাদের থেকে ভাল কিছু আশা করা ঠিক হবে না।

সাপোর্টঃ

আজকের দুনিয়ায় সাপোর্ট একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনার সার্ভার যদি কখনো ডাউন হয় আর যদি তা জানাতে এবং উত্তর পেতে কয়েক দিন লেগে যায় তাহলে লক্ষ ভিজিটর হারাতে পারেন। আর যদি আপনি রিসেলার ক্লাইন্ট হোন তবে তো মহাবিপদে পড়বেন। আপনার ক্লাইন্টকে কোন উত্তর দেয়ার মতো কিছু থাকবে না। তাই কোম্পানির সাপোর্ট কত দ্রুত তা নিশ্চিত হয়ে নিন। হোস্টিং কোম্পানি জিজ্ঞাসা করুন তাদের গ্যারান্টেড সাপোর্ট রেসপন্স টাইম কেমন। এবং কি কি মাধ্যমে সাপোর্ট দিয়ে থাকে।

হোস্টিং ফিচারঃ

হোস্টিং প্লানগুলোর মধ্যে কোন লিমিটেশন থাকলে সেটা অনেক সময় ভালভাবে উল্লেখ করা থাকে না। তাই প্লানগুলোর তুলনা করে আপনার চাহিদার সাথে মিলে কিনা তা দেখে নিন। আপনি যদি এএসপি ডট নেটে সাইট বানাতে চান তাহলে আপনার উন্ডডোজ হোস্টিং লাগবে। লিনাক্স হোস্টিং এ চলবে না। আপনার যে যে ফিচার প্রয়োজন তা তারা দিতে পারছে কি না দেখে নিন। লিমিটেশন জেনে নেওয়া আপনি আপনার হোস্টিং এ কি কি হোস্ট করতে পারবেন এবং কতটুকু স্পেস, ব্যান্ডউইথ, সিপিউ ব্যবহার করতে পারবেন তা টার্মস অব সার্ভিসেস পেজে দেয়া থাকে। তাই কোম্পানির টার্মস অব সার্ভিসেস পড়ে নিতে হবে।

সার্ভার লোডঃ

সার্ভার ওভার লোড কিনা তা নিশ্চিত হয়ে নিন। আপনি হোস্টিং কোম্পানিকে সার্ভারের টোটাল কোর এবং প্রসেসর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন। যদি সার্ভার কোর ৮টা হয় এবং তাদের সার্ভার লোড ৮ এর উপরে হয় তাহলে সার্ভার ওভারলোড। এবং ওভারলোড সার্ভারে সাইট হোস্ট করলে সাইট লোড হতে বেশি সময় নিবে। এসব বিষয় খেয়াল রেখে ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনলে আশাকরি ভাল মানের হোস্টিং কিনতে পারবেন। নিচে আলোচিত ৩০টি প্রয়োজনীয় টুলস দ্বারা আপনি জানতে পারবেন কীভাবে ওয়েব পেজ তৈরী করতে হয়, এর জন্য কি কি টুলস লাগবে, কোথায় সেগুলো পাবেন, কীভাবে আপলোড করতে হয়, ম্যানেজ করার টুলস, জনপ্রিয়তার মাপকাঠি এবং সার্চ ইন্জিনে কীভাবে নিবন্ধন করতে হয় ইত্যাদি। যারা ওয়েব পেজ নিয়ে কাজ করতে চান তাদের এটি কাজে আসবে আশা করি।

ওয়েব পেজ তৈরী করার টুলসঃ

ড্রিমওয়িভার– ওয়েব সাইট প্যাকেজ তৈরী করার জন্য খুবই জনপ্রিয় ।

হটস্ক্রিপ্ট– ওয়েব সাইটকে আকর্ষনীয় করার জন্য উম্মক্ত স্ক্রিপ্ট।

এইচটিএমএল কীট– ওয়েব পেজ কোডিং করার টুলস।

অটোরিপ্লেস– একাধিক ওয়েব পেজের টেক্সসমূহ সহজেই বদল করার জন্য।

ন্যামো ওয়েব এডিটর– ওয়েব সাইট তৈরী করার টুলস।

নোটপ্যাড++ নোটপ্যাড থেকে অধিকতর উন্নত সংস্করণ ।

সেরিফ ওয়েবপ্লাস– ওয়েব পেজ তৈরী করার সফটওয়্যার।

চিত্রলেখ (গ্রাফিকস) ডিজাইন টুলস

অ্যাডোবে ফটোশপ– জনপ্রিয় ইমেজ এডিটিং সফটওয়্যার।

কুলটেক্স– অনলাইন লোগো গ্রাফিকস তৈরী করার জন্য।

ইরফানভিউ– ইমেজ এডিটিং সফটওয়্যার।

পিক্সি– যেকোন রংয়ের এইচটিএমএল মান জানার জন্য।

সেরিফ ড্রপ্লাস– গ্রাফিকস এডিটিং সফটওয়্যার।

ওয়েব সাইট ব্যবস্হাপনা টুলস

কনট্রিবিউট– সহজেই সাইট এবং ব্লগ হালনাগাদ করার জন্য।

কফিকাপফ্রিএফটিপি– ওয়েব সাইট আপলোড এবং ব্যবস্হাপনা

ইমেল চেক– স্প্যামাররা ওয়েব সাইট ইমেল এড্রেস দেখতে পায কি না তা যাচাই করা

ফায়ারফক্স– ওয়েব ডেভেলপার এক্টেনশন- ওয়েব সাইট প্রকাশনা বা তৈরী

ফাইলজিলা– ওয়েব সাইট ফাইলস আপলোড এবং ব্যবস্হাপনা

লিংক পপুলারিটি– ওয়েব সাইট সার্চ ইন্জিনের নিকট কতটা জনপ্রিয় তা যাচাই করার জন্য।

অ্যালেক্সা টুলবার– অ্যালেক্সা সাইট তথ্যের জন্য

লিংক্স ব্রাউজার– টেক্স ব্রাউজারে সাইট

কেমন দেখাবে তা যাচাই করে দেখা

ডব্লিউথ্রিসি ভ্যালিদেটর– ওয়েব পেজের কোডিংয়ের মান যাচাই করা

ফ্লাশ এনিমেশন:

ফ্লাশ প্রো– প্রিমিয়ার ফ্লাশ তৈরী করার সফটওয়্যার

সুইস ম্যাক্স– ফ্লাশ ফাইল তৈরী করার টুলস।

এফোরডেক্স– কাঠামো (টেম্পলেট) ব্যবহার করে সহজেই ফ্লাশ সাইট তৈরী করা।

ডিভআইও– ডিজিটাল ক্যামেরা থেকে ভিডিও এভিআইতে নেওয়া।

কুলমুভস– সহজেই ফ্লাশ এনিমেশন তৈরী করা।

টারবাইন এনকোডার– সচল চিত্র (ভিডিও) কে স্টিমিং ফ্লাশে পরিবর্তন করা।



টেকহাব এর সাথে থাকবেন। কপিরাইট © ২০১৭ | প্রকাশিত লেখাসমুহ টেকহাব.কম.বিডি দ্বারা সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুগ্রহপূর্বক অনুমতি ব্যতীত এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা অন্য কোথাও প্রকাশ করবেন না করলে আইনত ব্যবস্তা গ্রহন করা হবে, ধন্যবাদ।

Author: UDOY

Hlw,I am Udoy Saha Abir.

Leave a Reply

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here