[ বই রিভিউ ] যখন পুলিশ ছিলাম

#বই রিভিউ 

নামঃ যখন পুলিশ ছিলাম
লেখকঃ ধীরাজ ভট্টাচার্য
ক্যাটাগরিঃ উপন্যাস (আত্ম-সামাজিক)
প্রকাশনীঃ নিউ এজ পাবলিশার্স (আমি পেপারব্যাক পড়েছি, নীলক্ষেত প্রিন্ট)
দামঃ ৫০/-(আমার কেনা)
পৃষ্ঠাঃ ২৩২

#কাহিনী সংক্ষেপঃ

কলকাতার সতেরো/আঠারো বছর বয়সের চটপটে এক যুবক ধীরাজ ভট্টাচার্য। পড়াশোনায় মোটামুটি গোছের ঘোর মধ্যবিত্ত ছেলেটির মাথায় ঝোঁক চাপল সিনেমায় নামবে। নেমেও গেল এবং তৎকালীন কলকাতার ম্যাডান কোম্পানীর একটি সিনেমায় অভিনয়ও করে ফেলল। কিন্তু তার রক্ষণশীল মধ্যবিত্ত পরিবার তা মানবে কেন? নানা রকম জোড়াজুড়ির পর তাকে নিতে হলো পুলিশের আই.বি ডিপার্টমেন্টের চাকরি। স্বদেশী আন্দোলনে যারা যুক্ত তাদের ধরিয়ে দেবার দায়িত্বে ওয়াচার হিসেবে বিভিন্ন পয়েন্টে কাজের দায়িত্ব পড়লেও আনকোড়া হবার দরুন বারবার কাজে অপরিপক্বতা ধরা পড়ে যায়। শেষতক সারদায় ট্রেনিং নিয়ে কলকাতার গন্ডি পেরিয়ে দায়িত্ব পড়ে চট্টগ্রামের কোতয়ালী থানায়। অল্পসময়ের পরিচয়েই থানার সবার সাথে বেশ ভালো সখ্যতা গড়ে ওঠে। অভিনয় ও গায়কী দক্ষতার জন্য সবার কাছে আলাদা একটি কদর হয় তার। তার এই দক্ষতার খবর পৌছে যায় পুলিশ সুপারিনডেন্টের স্ত্রী মিসেস মুলান্ডের কাছে। মিসেস মুলান্ড আলাদা খাতির করেন ধীরাজ কে। কিন্তু মি.মুলান্ড তার সুন্দরী পুরুষকাতর স্ত্রীর সাথে ধীরাজের কোন অঘটন ঘটার আগেই ধীরাজকে রক্ষার জন্য পাঠিয়ে দেন টেকনাফের দুর্গম অঞ্চলে। জলযানযোগে অপরিচিত মগ উপজাতি অধ্যুষিত টেকনাফে গিয়ে জমিয়ে তুলতে সময় লাগেনি ধীরাজের। হরকিরাম, মহেন্দ্রবাবু, রমেশ, যতীন, সতীশদের নিয়ে বেশ কেটে যাচ্ছিল তার টেকনাফের জীবন। কিন্তু বাধ সাধল একদিন। পানি নিতে আসা মগ নারীদের দেখতে দেখতে চোখ আটকে গেল অভিজাত দেখতে অপরূপা এক তরুণীর উপর। জানা গেল স্থানীয় মগ সম্প্রদায়ের সর্দারের মেয়ে এই তরুণী। নাম মাথিন। নাওয়া খাওয়া ভুলে মাথিনের স্বপ্নে বিভোর ধীরাজ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল মাথিনকে বিয়ে করে ফেলবে। কিন্তু যেদিন বিয়ের প্রস্তাব করবে ভাবল তার দু’দিন আগে একটি দুর্গম এলাকায় অভিযানের দায়িত্ব পড়ে গেল তার। মাথিনকে দুইদিনের মাঝেই ফিরে আসার খবর পাঠিয়ে অনিচ্ছাসত্ত্বেও রওনা দিল ধীরাজ। কিন্তু অঘটন ঘটে গেল। তারপর কী হলো? ধীরাজ কি ফিরতে পারে? বিয়ে কি হয়? নাকি অন্য কিছু ঘটে? এসব জানতে হলে বইটি পড়া ছাড়া গতি নেই।

#পাঠ প্রতিক্রিয়া:


মূলত আত্মজীবনী মূলক উপন্যাস হলেও বইটি মধ্যবিত্ত ত্যাগী জীবন যাপনের একটি অনবদ্য উদাহরণ। বাস্তবতার কাছে শখ কত সহজেই হার মেনে যায় তার সুন্দর প্রতিবিম্ব বইটিতে ফুটে ওঠেছে। পাশাপাশি বইটির যে নাম ভূমিকা, সেই পুলিশ গোষ্ঠির জীবনধারার একটি স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যায়। যদিও বর্তমান পুলিশ গোষ্ঠির সাথে তখনকার মিল খুঁজতে গেলে অন্যায় হবে। তবে তাদের জীবনধারার মূল কাঠামো এক। কেন পুলিশরা পার্বত্য এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে অপারগতা প্রকাশ করেন তা বেশ দৃশ্যমান বইটিতে। সেই সাথে মগ উপজাতিদের জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস, সব কিছুর বেশ সুন্দর একটি বিবরণ আছে বইটিতে। আবার সমুদ্রতীরবর্তী কিছু মানুষের দুর্দশাময় জীবনের চিত্রও দেখা যায়। সুন্দর মজার কিছু ঘটনার পাশাপাশি কিছু করুণ ঘটনা পাঠক মনে বেদনা সঞ্চার করতে বাধ্য। সব ছাপিয়ে একজন মধ্যবিত্ত যুবকের জীবনের চরম সত্যময় ঘটনার বাস্তব সাক্ষী হয়ে থাকবে বইটি। বইটি বাংলা সাহিত্যাঙ্গনের অন্যতম সুন্দর একটি বই বলেই মনে করি। বেশ ভালো লেগেছে বইটি।

রেটিং : ৪.৭/৫

টেকহাব এর সাথে থাকবেন। কপিরাইট © ২০১৭ | প্রকাশিত লেখাসমুহ টেকহাব.কম.বিডি দ্বারা সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুগ্রহপূর্বক অনুমতি ব্যতীত এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা অন্য কোথাও প্রকাশ করবেন না করলে আইনত ব্যবস্তা গ্রহন করা হবে। ধন্যবাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here